মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

কৃষি ব্যবস্থা

শরীয়তপুর জেলার কৃষি ব্যবস্থা

 

শরীয়তপুর নদী বেষ্টিত একটি জেলা। এর উত্তরে পদ্মানদী ও মুন্সীগঞ্জ জেলা পূর্বে মেঘনা নদী ও চাঁদপুর জেলা, দক্ষিণে বরিশাল জেলা ও পশ্চিমে মাদারীপুর জেলা। এ জেলায় ৬ টি উপজেলা, ৫ টি পৌরসভা ও ৬৫ টি ইউনিয়ন আছে। জেলার মোট আয়তন ১১৮১.৮৪ বর্গ কিলোমিটার ও মোট জমির পরিমান ১১৮২৩৪ হেক্টর। এর মধ্যে আবাদী জমির পরিমান ৯৭৪১৬ হেক্টর। ১০,১১ ও ১৯ কৃষি পরিবেশ অঞ্চলের অন্তর্ভূক্ত। এ জেলায় পলি দো-আঁশ, এটেল দো-আঁশ ও কাদা বুনটের মাটি দৃশ্যমান।

 

মাটির অম্লত্ব ও ক্ষারত্বের পরিমান ৫.০০-৭.৯০ পর্যন্ত। বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ১৮০০ মিলিমিটার। বর্ষাকালে মাঝারী বন্যায় এ জেলার প্রায় ৭৫-৮০ ভাগ এলাকা প্লাবিত হয়। পদ্মা মেঘনা আড়িয়াল খা নদীর প্রভাবে এ জেলা বন্যা প্রবন ও উক্ত মৌসুমের ফসল ঝুকিপূর্ণ। ধান, গম, পাট, আখ, সরিষা, ডাল জাতীয় ফসল, পেয়াজ, রসুন, মরিচ ও ধনিয়া এ জেলার প্রধান ফসল। এছাড়া পান অর্থকরী ফসল হিসাবে আবাদ হয়। প্লাবনভূমি হওয়ায় এ জেলায় আউশ মৌসুমে উফশী জাতের ধানের চাষ আনুপাতিক হারে কম হয়। আমন মৌসুমেও উফশী জাতের চাষ অতি সীমিত। জাজিরা উপজেলায় টমেটো, বেগুন, করলা, পেয়াজ, রসুন ও গোসাইরহাট উপজেলার করলা ঢাকার বাজারে বড় যোগানদার। সুরেশ্বর জাতের ডাঁটা এ জেলা থেকে উদ্ভাবিত।

 

এ জেলা খাদ্য ঘাটতি এলাকা হিসাবে চিহ্নিত ছিল। সাধারণত প্রাকৃতিক কারণে ফসল হানি না হলেও বছরে খাদ্য ঘাটতি থাকত গড়ে ২৫০০০ মেঃ টন। ১৯৯৮ ও ২০০৪ সালের বন্যা এবং ২০০৭ সালের সিডর আক্রান্ত হওয়ায় খাদ্য ঘাটতি দাড়ায় ৪০০০০ মেঃ টন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকান্ড পূর্বের তুলনায় বৃদ্ধি পাওয়ায় খাদ্য ঘাটতি পুরণ করেও উদ্বৃত্ত খাদ্যের পরিমান ২০৩৪৬ মেঃ টন। আধুনিক কৃষি প্রসারের সাথে সাথে এ জেলায় কিছু অপ্রচলিত ফসলসহ বোরো, আলু, চীনা বাদাম, শাকসব্জী ও মশলা জাতীয় ফসলের আবাদ বাড়ছে। আধুনিক প্রযুক্তি যেমন- মানসম্পন্ন বীজের ব্যবহার, সেচ সম্প্রসারণ, রোগ বালাই দমনে আইপিএম প্রযুক্তি ব্যবহার বাড়ছে। সেচ বন্যা নিয়ন্ত্রণ সমন্বিত কৃষি কর্মসূচীসহ নুতন নুতন কৃষি বিষয়ক কর্মসূচী চালু করা গেলে জেলার কৃষি উৎপাদন উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে।

 

 

(ক) সাধারণ তথ্য (জমির পরিমান হেক্টরে)

১।

মোট এলাকা

১১৮২৩৪

২।

জলাভূমি

১০৭৬০

৩।

বনভূমি

৬৬০

৪।

শহর এলাকা

৯৩৯৮

৫।

উপজেলার সংখ্যা

০৬

৬।

ইউনিয়নের সংখ্যা

৬৫

৭।

গ্রামের সংখ্যা

১০৮৭

৮।

মৌজার সংখ্যা

২০৪

৯।

ব্লকের সংখ্যা

১৬৩

১০।

প্রতি বর্গমিটারে লোকসংখ্যা

৯৭০

১১।

কর্মরত ব্লক এসএএও’র সংখ্যা

৯৪

১২।

এসএএও শূণ্য পদেও সংখ্যা

৭৫

 

(খ) কৃষি জমির তথ্যঃ জমির পরিমান হেক্টরে

১।

মোট আবাদীযোগ্য জমি

৯৭৪১৬

২।

স্থায়ী পতিত

৬৫৯৪

৩।

সাময়ীক পতিত

৮৩৪৬

৪।

নীট ফসলী জমি

৮৫৫৮৮

৫।

এক ফসলী জমি

২৪৮৫৯

৬।

দুই ফসলী জমি

৪৮৬৩৮

৭।

তিন ফসলী জমি

১০০৯৪

৮।

মোট ফসলী জমি

১৫২৪১৭

৯।

ফসলের নিবিড়তা

১৭৬.২৪%

১০।

এইজেড নং

১০, ১২, ১৯

১১।

জমিঃ

৮৫৫৮৮

ক) উচু

৫৯৬৩

খ) মধ্যম উচু

৩২১৩৯

গ) মধ্যম নীচু

৩০২৬৭

ঘ) নীচু

১১২৬৬

ঙ) অতি নীচু

৫৭১০

১২।

মাটির প্রকারঃ

 

ক) এটেল মাটি

৮৪১৪

খ) এটেল দো-আঁশ মাটি

৩২১৪৯

গ) দো-আঁশ মাটি

৫৬৮১

ঘ) বেলে দো-আঁশ মাটি

৩২২৮৫

ঙ) বেলে মাটি

৯১১৭

 

) উল্লেখ্যযোগ্য প্রতিবন্ধকতা

 

 

সমস্য

১।

মান সম্মত বীজের অভাব।

২।

সেচ সমস্যঃ

 

ক) বিদ্যুতের লোড সেডিং।

 

খ) ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধি

 

গ) নদী ও খালে পানির স্বল্পতা।

৩।

সেচের পানির অপচয়।

৪।

বন্যা।

৫।

মাটির স্বাস্থ্য নষ্ট হয়ে যাওয়া।

৬।

চর এলাকায় দূর্যোগ সমস্যা।

৭।

পুষ্টির সমস্যা।

৮।

শাক সব্জীর আবাদঃ

 

যেমনঃ পটল, কাকরোল, লতিরাজ কচু।

ছবি